[email protected]
+880 288 70 770

1st Floor, 113/B, Tejgaon Industrial Area, Dhaka-1208

Donate Now
03May

যাকাত গ্রহীতা থেকে যাকাত দাতা হওয়ার আকাঙ্খা, অভাব থেকে আত্মমর্যাদার পথে রাজশাহীর কেয়া খাতুনের অনুপ্রেরণার গল্প

যাকাত গ্রহীতা থেকে যাকাত দাতা হওয়ার আকাঙ্খা, অভাব থেকে আত্মমর্যাদার পথে রাজশাহীর কেয়া খাতুনের অনুপ্রেরণার গল্প


রাজশাহীর পবা উপজেলার বাসিন্দা মোসা. কেয়া খাতুন, বয়স মাত্র ২৭ বছর। তাঁর দুই মেয়ে - একজনের বয়স ৯ বছর, অন্যজনের ৭ বছর। একসময় তাঁদের পরিবারের জীবন ছিল চরম অভাব-অনটনে ঘেরা।

তাঁর স্বামী অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। বাবার বাড়ির সামান্য সম্পদ বিক্রি করে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করলেও সংসারে ঠিকমতো খাবার জুটত না। অনেক সময় একবেলা খেলে আরেকবেলা না খেয়েই কাটাতে হতো। কখনো কখনো কেয়া খাতুন নিজে শুধু ভাতের মাড় খেয়ে মেয়েদের জন্য ভাত তুলে রাখতেন।

২০২৪ সালে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)-এর জীবিকা প্রকল্পে সুবিধাভোগী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর তিনি ও তাঁর স্বামী সিজেডএম-এর সবজি চাষ এবং গরু-ছাগল পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রথমে তাঁদের জন্য বরাদ্দ যাকাত তহবিল থেকে ১৫,০০০ টাকা নিয়ে আলু চাষ শুরু করেন। বাজারে আলুর দাম কম থাকা সত্ত্বেও নিজের পরিশ্রম ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ১০,০০০ টাকা মুনাফা করেন।

এরপর ৩০,০০০ টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭০,০০০ টাকা। পাশাপাশি যাকাত তহবিল থেকে ১০,০০০ টাকা নিয়ে দুটি ছাগল কেনেন। এক বছর পর একটি ছাগল বাচ্চা দেয় এবং অন্যটি ১০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। বর্তমানে তাঁর ৩টি ছাগল রয়েছে, যার মধ্যে একটি তিনি জীবনে প্রথমবারের মতো কুরবানির জন্য রেখেছেন।

শুধু তাই নয়, আরও ১০,০০০ টাকা দিয়ে নিয়ে একটি সেলাই মেশিন কিনেছেন। এখন তিনি আশপাশের মানুষের কাপড় সেলাই করে বাড়তি আয় করছেন।

কেয়া খাতুন সুদ ও সুদভিত্তিক ঋণকে খুবই অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, সিজেডএম-এর সহায়তা না পেলে তাঁর জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে যেত।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর স্বামী এখন আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। তাই সিজেডএম পরিচালিত পবা ইসলামিক একাডেমিতে তাঁকে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে তাঁদের পরিবারের গড় মাসিক আয় প্রায় ২০,০০০ টাকা এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ ৯১,০০০ টাকা।

যে পরিবার একসময় না খেয়ে দিন কাটাত, আজ সেই পরিবার স্বাবলম্বিতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কেয়া খাতুন এখন খুব শিগগিরই যাকাত দেওয়ার সামর্থ্য অর্জনের আশা প্রকাশ করেছেন, ইনশাআল্লাহ।

আপনার যাকাত ও সদাকাহ এমন অসংখ্য পরিবারের জীবন বদলে দিচ্ছে।


Content section image